বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত আর ফিরতে পারবেন না তার প্রিয় ক্যাম্পাসে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রোববার (৯ আগস্ট) রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত ইয়াসিন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন সড়কের জরুরি সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবি আদায় না হলে সোমবার আবারও ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে দপদপিয়া এলাকায় একটি দূরপাল্লার বাস ও থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ইয়াসিনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হলেও পথিমধ্যে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির কারণে তার মৃত্যু হয়।
ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে আসেন এবং রাত আটটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত ভাঙাচোরা সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে, অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছেও তারা বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ইয়াসিনের মরদেহ ক্যাম্পাসে আনা হচ্ছে না। সোমবার সকালে তিনি জানান, স্বজনদের অনুরোধে মরদেহ দ্রুত গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই গভীর রাতে মরদেহ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাদ আসর অথবা বাদ মাগরিব ইয়াসিনের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হতে পারে।