হঠাৎ পেটে মোচড় দেওয়া, বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য আবার কখনো পাতলা পায়খানা—এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যখন বড় কোনো শারীরিক রোগ ধরা পড়ে না, তখন চিকিৎসকরা একে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে প্রশ্ন ওঠে, আইবিএস কি কেবল পেটের রোগ, নাকি এর পেছনে মানসিক কারণ রয়েছে?

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে একটি নিবিড় যোগাযোগব্যবস্থা বিদ্যমান, যাকে বলা হয় "গাট–ব্রেন অ্যাক্সিস"। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা কিংবা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক চলন (পেরিস্ট্যালসিস) ও সংবেদনশীলতা পরিবর্তিত হয়, যা আইবিএসের উপসর্গগুলোকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই কারণেই অনেকে লক্ষ্য করেন যে, পরীক্ষার আগে, চাকরির ইন্টারভিউ, ভ্রমণে যাওয়া কিংবা পারিবারিক মানসিক চাপের সময়ে পেটের অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।

তবে একটি ভুল ধারণা দূর করা প্রয়োজন। আইবিএস মানেই এই নয় যে রোগটি কেবল ‘শুধু মনের’ বা রোগীর কল্পনাপ্রসূত। এখানে মানসিক চাপ একটি ট্রিগারিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করলেও, এটি একটি বাস্তব ও স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক সমস্যা। মানসিক চাপ যেমন এর তীব্রতা বাড়াতে পারে, তেমনি দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যাও রোগীর মনে উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিতে পারে। অর্থাৎ, পেট ও মন একে অপরকে সরাসরি প্রভাবিত করে।

আইবিএস নিয়ন্ত্রণে কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা ব্যায়ামের পাশাপাশি যেসব খাবার উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়, সেগুলো শনাক্ত করে এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। এছাড়া মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কিংবা প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

তবে কিছু সতর্ক সংকেত মনে রাখা জরুরি। পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর, রক্তস্বল্পতা কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে পেটের ব্যথা হলে তাকে আইবিএস হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

পরিশেষে, সুস্থ থাকতে হলে পেটের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুস্থ মন ও সুস্থ অন্ত্র একে অপরের পরিপূরক।