তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে আমরা অনেকেই কোল্ড ড্রিংকস, লেবুর শরবত কিংবা কমলা ও আনারসের জুসের মতো পানীয়র ওপর নির্ভর করি। তবে এই পানীয়গুলো স্বাদে তৃপ্তিদায়ক হলেও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ, কোল্ড ড্রিংকস এবং অধিকাংশ ফলের জুসে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং সাইট্রিক, ফসফরিক বা কার্বনিক অ্যাসিড থাকে, যা দাঁতের ওপরের শক্ত সুরক্ষা স্তর বা এনামেলকে নরম করে দেয় এবং ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাসিডের সংস্পর্শে দাঁতের ক্ষয়প্রতিরোধক আবরণ পাতলা হয়ে যায়। এর ফলে দাঁতের প্রান্ত স্বচ্ছ দেখাতে শুরু করে এবং ভেতরের হলদেটে আবরণ বেরিয়ে পড়ে, যা দন্তক্ষয়ের প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাবে ঠান্ডা, গরম বা মিষ্টি খাবারে তীব্র শিরশির অনুভূতি হয় এবং অনেক সময় সাধারণ বাতাসেও দাঁত ব্যথা করতে পারে।
কেবল দাঁত নয়, এসব পানীয়র কারণে মাড়ির সমস্যাও দেখা দেয়। মাড়ির প্রদাহের পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জিনজিভাইটিস ও পেরিওডন্টাল ডিজিজের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ক্ষয়ের কারণে দীর্ঘ সময়ে দাঁতের কামড়ানোর তল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছোট হয়ে যেতে পারে এবং সামনের দাঁত পাতলা ও খাঁজকাটা হয়ে সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে।
দাঁতের এই ক্ষতি রোধ করতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মিষ্টি বা ঠান্ডা পানীয় পান করার পরপরই সাধারণ পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করা উচিত, যাতে অ্যাসিড ও চিনি ধুয়ে যায় এবং মুখের পিএইচ (pH) স্বাভাবিক হয়। তবে মনে রাখতে হবে, অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পরপরই ব্রাশ করলে দাঁতের ক্ষয় আরও বাড়ে। তাই ব্রাশ করার আগে অন্তত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত, যাতে লালা প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিড ধুয়ে এনামেলকে পুনরায় শক্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম ব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পানীয় পানের ক্ষেত্রে স্ট্র ব্যবহার করলে তরল দাঁতের সংস্পর্শে কম আসে; এক্ষেত্রে স্ট্রটি মুখের পেছনের দিকে রাখা শ্রেয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘন ঘন চুমুক দিয়ে ঠান্ডা পানীয় পান করা, জোরে ব্রাশ করা এবং রাতে ঘুমানোর আগে অ্যাসিডযুক্ত পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। লালা উৎপাদন বাড়াতে চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবাতে পারেন অথবা বেশি করে পানি পান করতে পারেন, কারণ লালা প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিডকে নিরপেক্ষ করে।
সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও উপকারী তরল হলো বিশুদ্ধ স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি।
— তথ্যসূত্র: ডা. সৈয়দ আতিকুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, ডেন্টাল ইউনিট, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল।