কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে মো. ইয়াছিন নামের এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলীর মধ্যবর্তী সার্ফিং ক্লাবের সামনের এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. ইয়াছিন (২০) রামু সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও পরিবারের সঙ্গে তিনি কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া ফুলবাগ সড়ক এলাকায় বসবাস করতেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ইয়াছিন তাঁর তিন বন্ধু মো. শাহিদ, মো. সোহান ও মো. ওয়ালিদকে নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসেন। প্রথমে কলাতলী এলাকায় ঘোরাঘুরির পর তাঁরা হাঁটতে হাঁটতে সার্ফিং ক্লাবের সামনের সৈকতে পৌঁছান এবং সেখানে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইয়াছিনের বন্ধু মো. সোহান বলেন, "গোসলের সময় হঠাৎ প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়েন ইয়াছিন। স্রোতের টানে তিনি পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাঁদের বন্ধু শাহিদ ইয়াছিনকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে তাঁর হাত ধরে ফেলেন। কিছুক্ষণ ধরে রাখতেও সক্ষম হন। কিন্তু স্রোতের তীব্রতায় একপর্যায়ে ইয়াছিনের হাত ছুটে যায়। মুহূর্তেই ঢেউয়ের মধ্যে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।"
দুর্ঘটনার পরপরই বন্ধুরা স্থানীয় পুলিশ বক্সে খবর দিলে সি-সেইফের লাইফগার্ড কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তল্লাশির পর সমুদ্র থেকে ইয়াছিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সি-সেইফের লাইফগার্ড কর্মী মো. শুক্কুর বলেন, "খবর পাওয়ার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। ইয়াছিন ও তাঁর বন্ধুরা যে জায়গায় গোসল করতে নেমেছিলেন, সেখানে লাইফগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা অবস্থান করেন না। বর্তমানে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল। পাশাপাশি তীব্র স্রোতও রয়েছে। এ অবস্থায় পর্যটক ও স্থানীয় লোকজনদের লাইফগার্ড নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ জোনে গোসল করা উচিত।"
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, "এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহত ইয়াছিনের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"