কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহরণের ঘটনা রোধ করতে সেনাবাহিনীর দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার হিল ডাউন সার্কিট হাউজে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত মূল হোতাদের একটি তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি করে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
সীমান্ত এলাকার অপরাধের ধরন নিয়ে আলোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের মধ্যে গভীর পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে; টেকনাফ ও উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং নৌপথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে।"
সিন্ডিকেট নির্মূলে রামু পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, "সিন্ডিকেট নির্মূলে রামু পদাতিক ডিভিশনের জিওসির নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সকে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি, মানবপাচারকারী ও অপরাধের মূল হোতাদের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
মাদক নির্মূলে পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং সমুদ্রপথে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল বাড়ানোর কথা জানান তিনি। এছাড়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জলপথে চোরাচালান শনাক্ত করতে টেকনাফ ও উখিয়ার সব জেলে এবং নৌযানের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি), পৃথক হাজতখানা ও মালখানা নির্মাণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য পৃথক কারাগার নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বেসরকারি বিমানযোগে কক্সবাজারে পৌঁছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সভায় যোগ দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশীর চৌধুরী, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান এবং বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কার্যালয় পরিদর্শন, ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’ এর উদ্বোধন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে। রাত ৮টায় তার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।