রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) পুরোনো তার চুরির অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সামনে আসার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ পরিত্যক্ত ওই মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। তবে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের বাড়ি রাজশাহী নগরের মোল্লাপাড়া এলাকায়। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রবিউল অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ শাখায় ঠিকাদারি করেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
একটি তারবোঝাই ভ্যানের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রাইভেট কারটির চালক মো. ময়না নিজেও একজন ঠিকাদার। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় একটি তারবোঝাই ভ্যান তাঁর গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভ্যানে থাকা তারগুলো রবিউল ইসলামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি তিনি গণপূর্ত বিভাগ-২-এর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিনা মো. মাসুমকে অবহিত করেন।
ময়নার ভাষ্যমতে, খবর দেওয়ার সময় রবিউল ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন, তবে পরে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। উপসহকারী প্রকৌশলীর ফোন করার পর রবিউল একটি ভ্যানে অল্প কিছু তার ফেরত পাঠান। তবে ময়নার দাবি, ভ্যানে যে পরিমাণ তার নেওয়া হয়েছিল, তার সামান্য অংশ ফেরত এসেছে। তাঁর মতে, অন্তত পাঁচ লাখ টাকার তার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিনা মো. মাসুম জানান, বুধবার হাসপাতালের এসির পুরোনো তারের বদলে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার নতুন তার স্থাপন করা হয়। এই কাজটি করেছিলেন রবিউল ইসলাম। এক আত্মীয়ের অসুস্থতার কারণে মাসুম সন্ধ্যায় হাসপাতালে ছিলেন না, আর সেই সুযোগেই রবিউল পুরোনো তার নিয়ে চলে যান। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত হাসপাতালে এসে কিছু তার ফেরত আনেন। এই সময়েই পুলিশ রবিউলের মোটরসাইকেলটি জব্দ করে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেননি বা যোগাযোগ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ বিষয়টি শোনার কথা জানান। তিনি বলেন, "হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে ছুটির সময় এসির তার চুরি হয়। তাঁর নিজের কার্যালয়ের এসির তারও একবার চুরি হয়েছিল।" তিনি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।