মৌলভীবাজারে এক বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে জীবিত পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির উটপাখি এবং অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত সুন্দর এমু পাখির ডিম একসঙ্গে দেখার। সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত ‘বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ’-এ সম্প্রতি এই দুই প্রজাতির পাখি ডিম দিয়েছে। বিরল এই ডিম এবং পাখিগুলোর রাজকীয় চালচলন উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৌতূহলী দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।
বার্ড পার্ক সূত্রে জানা গেছে, পার্কটিতে দুটি উটপাখি ও দুটি এমু পাখিকে আলাদা খাঁচায় নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। সম্প্রতি উটপাখি ও এমু জোড়া ডিম দেয়। এর মধ্যে উটপাখির ধূসর রঙের দুটি এবং এমুর একটি সবুজাভ-নীলচে রঙের ডিম বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। একদম কাছ থেকে ডিমগুলো দেখার সুযোগ পেয়ে অভিভূত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উটপাখি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও ভারী জীবিত পাখি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির উচ্চতা আট থেকে ১০ ফুট এবং ওজন ৬৩ থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভারী শরীরের কারণে ডানা থাকলেও এরা উড়তে পারে না; তবে ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে সক্ষম। উটপাখির একটি ডিমের ওজন দেড় কেজির বেশি হয়, যা প্রায় ২৪টি দেশি মুরগির ডিমের সমান। এরা মূলত আফ্রিকার তৃণভূমি, সাভানা ও শুষ্ক অঞ্চলে বসবাস করে।
অন্যদিকে, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম পাখি এমুর আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়ায়। উড়তে অক্ষম এই পাখির উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট এবং ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। স্ত্রী এমু সাধারণত গাঢ় সবুজ বা নীলাভ-সবুজ রঙের আকর্ষণীয় ডিম পাড়ে, যার ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম। উটপাখির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকলেও এমুর ডিম ফুটাতে পুরুষ পাখি নিজেই তা দিয়ে থাকে।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবেশবান্ধব পাখি উদ্যান। এখানে উটপাখি ও এমু ছাড়াও ময়ূর, টার্কি, ব্ল্যাক সোয়ান, চিত্রা হরিণ, রাজহাঁস ও চীনাহাঁসসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি এবং রঙিন মাছ রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য কৃত্রিম ঝরনা, বার্ড লার্নিং সেন্টার, কিডস জোন এবং ইলিউশন মিউজিয়াম রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, "আমাদের পার্কে উটপাখি ও এমুর ডিম দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত আনন্দের। ভবিষ্যতে আমরা কৃত্রিম উপায়ে বা প্রাকৃতিক নিয়মে এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর আশা করছি। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতে ডিমগুলো বর্তমানে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।"