কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমারখোলা আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৩) ভয়াবহ পাহাড়ধসে নানু জিয়া (৭) নামের এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে ভারী বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয়শিবিরের এফ-৫ ব্লকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই আশ্রয়শিবিরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও দুটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিহত শিশুটি ওই ক্যাম্পের এফ-৫ ব্লকের বাসিন্দা জমির হোসেনের ছেলে।
আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে আশ্রয়শিবিরের একাধিক পাহাড়ে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। আজ বেলা সোয়া দুইটার দিকে এফ-৫ ব্লকে পাহাড়ধসে শিশুটি মাটিচাপা পড়ে। এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।"
মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আরও বলেন, "ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।"
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ছয় শিশুসহ অন্তত ১৯ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে।
আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ করিম জানান, বেলা দুইটার দিকে ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের কয়েকটি অংশ ধসে পড়তে শুরু করে। এর কিছুক্ষণ পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে জমির হোসেনের ত্রিপলের ছাউনির বসতিতে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা শিশুটি মাটিচাপা পড়ে। স্থানীয় রোহিঙ্গারা মাটি সরিয়ে তাকে উদ্ধার করে এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্যাম্প প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাহাড়ধসে একই আশ্রয়শিবিরের এম-৮ ব্লকের বাসিন্দা সাবের আহমদ ও এম-৩২ ব্লকের বাসিন্দা হালিমা খাতুনের বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল বিকেল থেকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর ফলে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, হিমছড়ি, উখিয়া ও রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।