কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনায় এক পর্যটকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার ফলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় মাটি ও গাছপালা সরিয়ে রাস্তাটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জানান, "পাহাড়ধসের সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর মাটি ভেঙে পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা তিন যাত্রী আহত হন।" তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া না গেলেও তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টেকনাফের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশের উঁচু পাহাড়ের একটি অংশ বিরাট গাছসহ ধসে সড়কের ওপর পড়ে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে পর্যটকবাহী যানবাহনসহ শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে মাটি ও গাছপালা সরিয়ে ফেললে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মোতালেব জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই মেরিন ড্রাইভের পাহাড়ঘেঁষা অংশগুলোতে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, যা যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।