বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেছেন, "একটি বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ আংশিক পরিশোধ করা সম্ভব।" ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় উল্লেখ করেন, "৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে এক অনবদ্য, গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়।" তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ ও নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের পেশাজীবী মানুষ অভিন্ন দাবিতে রাজপথে নেমে এসে আন্দোলনকে শেখ হাসিনার পতনের এক দফার আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, "ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উন্মত্ত হয়ে ফ্যাসিস্ট শাসক আন্দোলন দমনে চরম দমনপীড়ন ও গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিলেও মুক্তিকামী মানুষ তা উপেক্ষা করে স্বৈরশাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলে।" ২০২৪ সালের এই দিনে বীরত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার দলের শীর্ষনেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র, জুলুম-নির্যাতন ও বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে জাতিকে মুক্ত করে।

আন্দোলনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, "পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের নির্বিচার গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন।" তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ সকল তাজা প্রাণের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত, পঙ্গু ও শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

জামায়াত আমীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "একটি বিশেষ মহলের কারণে শহীদদের মূল প্রত্যাশা—অর্থাৎ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আজও পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।" তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে দৃঢ় শপথ গ্রহণের অনুরোধ জানান।