জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটিতে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসানকে আহ্বায়ক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল্যাহকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদদীন। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকেই বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা ও মতবিনিময় করেছে। জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।
রইছ উদদীন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সার্বিক অগ্রযাত্রায় ইউজিসির সহযোগিতার জন্যই আজকে তাঁকে অতিথি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ দিনে উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সবার সংযত, দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি (অবস্থানে) পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হলো। আমি সেমিনার থেকে বের হয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। কেউ আমার কথা শোনেনি।’
উপাচার্য জানান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলার স্থান নেই। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রইছ উদদীন বলেন, তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সে সময় ছাত্রদলের সঙ্গে জকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। উল্লেখ্য, জকসুর বেশির ভাগ পদে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা।