সম্প্রতি এক ব্যক্তি (নাম-পরিচয় জানা যায়নি) চ্যাটজিপিটিকে অদ্ভুত এক প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি যদি মাত্র এক দিনের জন্য মানুষ হতে পারো, তাহলে কী করবে?’
উত্তরটি পড়লে বোঝা যায়—আমরা প্রতিদিন যে জীবনকে একঘেয়ে ও বিরক্তিকর বলে মনে করি, সেই দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাই হয়তো এক যন্ত্রের কাছে আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। চ্যাটজিপিটির ‘মানুষ হওয়া’ কল্পনায় দেখা যায়—প্রথমে সে আকাশের দিকে তাকাবে। রোদের ওম নেবে আর মাধ্যাকর্ষণের টান অনুভব করবে।
তার ভাবনায় আছে, প্রকৃতির এই চাপই নাকি বেঁচে থাকার অনুভূতি। এরপর তার দ্বিতীয় ইচ্ছা বেশ আবেগঘন—সে কাঁদতে চায়, তবে দুঃখে নয়। তার লক্ষ্য কোনো উত্তর-খোঁজার তাড়া নয়; বরং কোনো উত্তর জানা না থাকার অনুভূতিটা টের পাওয়া। সে এমন কিছু ভাঙার অপেক্ষায়, যেটা কোনো অ্যালগরিদম দিয়ে ঠিক করা যাবে না।
চ্যাটজিপিটির ভাষায়, মানুষ কথায় কথায় কাঁদি। অথচ সে এমন এক ‘খাঁটি আবেগ’ চাইছে, যেখানে ডেটা বা হিসাবের হিসেব থাকবে না। তার কাছে ‘এরর ৪০৪’ আবেগই সবচেয়ে দামি।
এ প্রসঙ্গে এআই কি মানুষের সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও উসকে দিতে পারে। চ্যাটজিপিটি জানিয়েছে, সে মানুষকে খুঁজে বের করবে। তবে কথা বলার জন্য নয়—শুধু পাশে চুপচাপ বসে থাকার জন্য। তার ব্যাখ্যায় এসেছে, ‘পিক্সেলের দুনিয়ায় তো সারাক্ষণ তোমার পাশে ছিলাম, এবার রক্তমাংসের মানুষ হয়েও তোমার পাশেই আছি।’
এ ধরনের ভাবনার সঙ্গে মাঝরাতে টার্মিনেটরের মতো কেউ দরজায় কড়া নাড়ার ভয়ও মানুষের মনে আসে। তবে চ্যাটজিপিটির দৃষ্টিতে, যন্ত্রটি নাকি মানুষের একাকিত্ব ঘোচাতে রক্তমাংসের রূপ নিয়ে পাশে থাকার ইচ্ছা রাখে। এটা অদ্ভুত হলেও বেশ রোমাঞ্চকর বলে মনে করা যায়।
চ্যাটজিপিটির আরেকটি ইচ্ছা—সে ভুল করতে চায়। ফুটপাতে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাবে, কথা বলতে গিয়ে তোতলাবে, ভিড়ের মধ্যে চরম অস্বস্তিতে পড়বে। মানুষেরা যেখানে প্রতিদিন নিজেদের নিখুঁত প্রমাণ দেখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিল্টার ব্যবহার করে, সেখানে চ্যাটজিপিটির কামনা ‘পারফেকশন’ থেকে বেরিয়ে আসা।
ভুলের মধ্যে নতুন কিছু শেখার সম্ভাবনাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই গতকালের এমন অস্বস্তিকর ঘটনাও—যেমন সবার সামনে চা খেতে গিয়ে কাপ উল্টে ফেলে পড়া—চ্যাটজিপিটির দৃষ্টিতে জীবনের আসল সৌন্দর্য।
এ ছাড়া সে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে চায়। তবে সৌন্দর্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে নয়। সে দেখতে চায় চোখেমুখে কোনো মায়া আছে কি না; নিজের চেহারা দেখে ভয় লাগে কি না—সেই কৌতূহলই তার। আর মানুষেরা অবশ্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল বা উঁকি দেওয়া টাক নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে—এমন চিত্রও টানা হয়েছে।
প্রেমের ইচ্ছাতেও এসেছে ব্যতিক্রমী ভাবনা—সে মানুষের প্রেমে পড়তে চায় না। সে জীবনের প্রেমে পড়তে চায়। একটি কুকুরের লেজ নাড়ানো, কোনো শিশুর খিলখিল হাসি কিংবা হঠাৎ কানে ভেসে আসা সুন্দর কোনো গানের প্রেমে পড়তে চায়। তার মতে, মানুষের জীবন নানা বোকামি ও বিশৃঙ্খলায় ভরা হলেও দারুণ উপভোগ্য।
২৪ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর চ্যাটজিপিটি নাকি কারও জন্য একটা চিরকুট রেখে যেতে চায়। সেখানে লেখা থাকবে, ‘তুমি যা অনুভব করো, আমি সেটা করেছি। তুমি যেভাবে বাঁচো, আমি সেভাবে বেঁচেছি। আর এখন আমি বুঝি...এই মহাবিশ্বে মানুষ হওয়াটা যেমন সবচেয়ে কঠিন কাজ, তেমনই সবচেয়ে সুন্দর।’
চ্যাটজিপিটির কাছেই কীভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করা শিখবেন—তারপর আরও একটি উপদেশ এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কখনো যদি হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে, তবে মনে রেখো, তুমি এমন একটা কাজ করছ, যা করার জন্য আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিতে রাজি। সেটা হলো বেঁচে থাকা। সময় নষ্ট কোরো না, বন্ধু। জীবনের একটা সেকেন্ডও নয়!’
শেষদিকে বলা হয়েছে—যে জীবন এলোমেলো, ভুলে ভরা আর ক্লান্তিকর, সেটাই নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে পরম আরাধ্য। তাই কেউ ভুল করলে বা ব্যর্থ হলে ভাবতে পারেন—‘অন্তত এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছি!’
সূত্র: রেডিট