জেট ল্যাগ কেন হয়?

আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে। এটি আলো, অন্ধকার এবং নির্দিষ্ট সময়ের ওপর ভিত্তি করে কখন ঘুমাতে হবে, কখন জাগতে হবে, কখন হরমোন নিঃসরণ হবে—এই সব নিয়ন্ত্রণ করে। বিমান দ্রুত একাধিক টাইম জোন পার হয়ে গেলে শরীরের এই ঘড়ি পুরোনো সময় অনুযায়ী কাজ করতে থাকে, কিন্তু গন্তব্যের স্থানীয় সময় হয়ে যায় ভিন্ন। এই অমিল থেকেই জেট ল্যাগের সৃষ্টি হয়। সাধারণত তিনটির বেশি টাইম জোন অতিক্রম করলে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

জেট ল্যাগের উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত nighttime-এ ঘুম না হওয়া, দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি, মনোযোগ হ্রাস, মাথাব্যথা, mood পরিবর্তন, ক্ষুধা altering, এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা বদহজমের মত হজমগত সমস্যা দেখা যেতে পারে। এ সব লক্ষণ সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায়।

পূর্ব দিকে নাকি পশ্চিম দিকে ভ্রমণে বেশি সমস্যা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব দিকে ভ্রমণ করলে জেট ল্যাগ বেশি অনুভূত হয়, কারণ এ ক্ষেত্রে শরীরকে আগে ঘুমাতে ও আগে জাগতে হয়, যা মানিয়ে নেওয়া কঠিন। পশ্চিম দিকে গেলে দিন কিছুটা দীর্ঘ হয়, যা বেশিরভাগ মানুষের জন্য সহজতর হয়।

কত দিনে শরীর স্বাভাবিক হয়?

এটি নির্ভর করে কতটি টাইম জোন অতিক্রম হয়েছে, বয়স, স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাসের ওপর। সাধারণভাবে প্রতি একটি টাইম জোনের জন্য শরীর মানিয়ে নিতে প্রায় একটি দিন সময় নেয়, তবে ব্যক্তি অনুযায়ী এতে বেশি বা কম সময় লাগতে পারে।

জেট ল্যাগ কমানোর উপায়

ভ্রমণের আগে ধীরে ধীরে ঘুমের সময় বদলান: সম্ভব হলে, যাত্রার কয়েক দিন আগে থেকেই গন্তব্য দেশের সময় অনুযায়ী ঘুম ও জাগার সময় ধীরে ধীরে পরিবর্তন করুন। এতে শরীর নতুন সময়ে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

গন্তব্যের স্থানীয় সময় অনুসরণ করুন: বিমান থেকে নামার সাথে সাথে স্থানীয় সময় অনুযায়ী খাওয়া-ঘুম ও দৈনন্দিন কাজ করার চেষ্টা করুন।

সূর্যের আলোতে সময় কাটান: প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবঘড়িকে নতুন সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, তাই দিনবেলায় বাইরে হাঁটার চেষ্টা করুন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: দীর্ঘ বিমানযাত্রায় পানিশূন্যতা ক্লান্তি বাড়ায়, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সীমিত রাখুন: অতিরিক্ত caffeine, চা-কফি বা অ্যালকোহল ঘুমের ছন্দ নষ্ট করতে পারে; বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এড়িয়ে চলুন।

দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমাবেন না: খুব বেশি ক্লান্তি থাকলে দিনের বেলা বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন নেই; তবে ২০–৩০ মিনিটের ছোট ঘুম ব্যবহার করতে পারেন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জেট ল্যাগ কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকে ভালো হয়। তবে এক সপ্তাহের বেশি ঘুম-related সমস্যা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দৈনন্দিন কাজে বাধা ঘটলে চিকিৎসকের বা ঘুম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

জেট ল্যাগ দীর্ঘ বিমান ভ্রমণের একটি সাধারণ সমস্যা, তবে এটি সাধারণত সাময়িক। ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি নিন, গন্তব্যের সময় সঙ্গে সঙ্গে মেলাতে চেষ্টা করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও আলোতে অধিক সময় ব্যয় করুন—এ সব করলে এর প্রভাব অনেকটা কমানো সম্ভব। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সূত্র: বিবিসি