কক্সবাজারের টেকনাফে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলা চালিয়ে বিকাশের দুই এজেন্টের কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত। এই হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বিকাশের এক কর্মী।

আজ রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ–কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে এই ঘটনা ঘটে। আহত কর্মীর নাম মো. আল আরমান (২৬), যার বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে বিকেল পাঁচটায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে পালকি পরিবহনের একটি বাস কক্সবাজার যাচ্ছিল। বাসে বিকাশের দুই কর্মীও ছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে বাসটি থামায়। এরপর কয়েকজন বাসে উঠে বিকাশের দুই কর্মীকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে দুটি ব্যাগে থাকা ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে বাসটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং লুটের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।"

তিনি আরও জানান, "জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে থানায় আনা হয়েছে। আহত বিকাশের দুই কর্মীর সঙ্গেও ঘটনার বিষয়ে কথা হয়েছে পুলিশের। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজ চলছে।"

বাসের এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, কক্সবাজারমুখী পালকি পরিবহনের বাসটিতে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে দমদমিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি অস্ত্রধারী ডাকাত দল সড়কে গাছ ফেলে বাসটি আটকায়। এ সময় কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এরপর পাঁচ থেকে ছয়জন মুখোশধারী বাসে উঠে বিকাশ এজেন্টের দুই বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজতে থাকে। এরপর একজনকে ছুরিকাঘাত করে ও অপরজনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার দুটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এই হামলায় আরমানের ডান হাতের বাহু ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং একরাম হোসেন নামের আরেক প্রতিনিধির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করা হয়। ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর বাসটি দমদমিয়া বিজিবি চেকপোস্টে গিয়ে ঘটনা জানালে বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।

বাসচালক ফয়েজুল করিম জানান, সড়কে ফেলা গাছের গুঁড়িতে লম্বা পেরেক লাগানো থাকায় বাসটি টেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া কয়েকজন মুখোশধারী যুবক বাসের সামনে অস্ত্র তাক করে রেখেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১০ বছরে এই সড়কে দিনদুপুরে এমন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট ও ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে তিনি টেকনাফের সীমান্ত ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের প্রদানের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। দুপুরে বিকাশের দুই প্রতিনিধিকে ৫৭ লাখ টাকা দিয়ে বাসে হোয়াইক্যং পাঠান। ওই টাকা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং বাজারের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। লুটের টাকার মধ্যে আরমানের কাছে ছিল ২২ লাখ এবং একরাম হোসেনের কাছে ছিল ৩৫ লাখ টাকা। একরাম হোসেনের বাড়ি সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকায়; মারধরে আহত তাকে টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ বাসে বিপুল পরিমাণ টাকা পাঠানোর বিষয়ে আবদুল করিম বলেন, "প্রতিদিনই তাঁরা ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে গ্রাহকের কাছে বিলি করে আসেন। আজও তাঁরা যাচ্ছিলেন। সম্ভবত টাকা নিয়ে যাওয়ার খবরটি ডাকাত দলের কাছে আগে কেউ পৌঁছে দিয়েছে। নইলে দিনদুপুরে সড়কে কাঁটাযুক্ত কাঠ ফেলে বাস জিম্মি করার সাহস পেত না।"

বিকেল পাঁচটায় তিনি ৫৭ লাখ টাকা লুটের বিষয়ে মামলা করতে টেকনাফ থানায় যান। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়েও লুটের টাকা উদ্ধার করতে পারেনি।