স্ট্রোক একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা হঠাৎ করেই ঘটতে পারে এবং অনেক সময় এর আগে স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মতো সহজ পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ওষুধ গ্রহণ করুন। লবণ কম খাওয়া, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ব্যায়ামও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করুন। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্য কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিকে সুস্থ রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দেয়।
ধূমপান এবং পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায় এবং রক্তচাপও বাড়াতে পারে। তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে থাকার চেষ্টা করা জরুরি।
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে রক্তনালির ক্ষতি করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন।
সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করবেন না। স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ আগে দেখা দিতে পারে, যেমন- মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত বা পায়ে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও ভারসাম্য হারানো। এসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন। সুষম খাদ্য রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
স্ট্রোক সব সময় প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এর ঝুঁকি কমানো যায়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মতো অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকারে আসতে পারে।