কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এই ঘটনায় ৪ মাঝিমাল্লাসহ মোট ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, ট্রলারে থাকা আরও ৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া নৌঘাট-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। উদ্ধার হওয়া ৪ মাঝিমাল্লা হলেন— নূর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নূর (২৭) ও নূর কামাল (৪০)। বিজিবির তথ্যমতে, তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরের বাসিন্দা।
এছাড়া উদ্ধার হওয়া অন্য ১৪ জন হলেন— কাশেম আলী (২৫), আয়াত উল্লাহ (৩৬), মো. জাবের (২৫), মীর আহম্মদ (২৪), রহিম উল্লাহ (৩৮), মো. ইউসুফ (২৬), নবী হোসেন (২০), কামাল হোসেন (২৩), মো. আয়াছ (২৩), মো. হোসেন (৩০), আবুল হাশেম (৩৫), রুজি উল্লাহ (২৪), এনামুল হাসান (২২) ও শফিউল্লাহ (২৫)।
উদ্ধারকৃতদের পরিচয় ও দেওয়া তথ্যের বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ নিজেদের সাধারণ রোহিঙ্গা দাবি করলেও, কেউ কেউ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি'র (আরসা) সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। বিজিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের তথ্যে নানা অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা কবে বাংলাদেশের ক্যাম্প ছেড়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে একেকজন একেক কথা বলছেন। কেউ দাবি করছেন ৩ বছর, কেউ ২ বছর, আবার কেউ ৬ মাস আগে উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থীশিবির ছেড়ে রাখাইনে গিয়েছিলেন। সেখানে খাদ্য ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় তারা পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া ট্রলারের মাঝি নূর কামাল জানান, "বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের খায়ুনখালী এলাকা থেকে ২৭ জন রোহিঙ্গাকে নিয়ে তারা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর এলাকায় পৌঁছালে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।" তার দাবি, ট্রলারে থাকা ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জন উদ্ধার হলেও বাকি ৯ জন সাঁতরে তীরে চলে গেছেন।
উদ্ধার হওয়া কাশেম আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমরা মিয়ানমারে আটকে ছিলাম। সেখানে খাদ্য ও থাকার সংকট দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। গোলারচর এলাকায় ট্রলারটি ডুবে গেলে স্থানীয় জেলেরা আমাদের উদ্ধার করেন।"
ঘটনাটি নিশ্চিত করে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, "সকালে নৌকাডুবির খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।"
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "নৌকাডুবির ঘটনায় মাঝিমাল্লাসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এবং তাদের প্রকৃত পরিচয় কী—সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।"
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজিবির এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।