কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এই দুর্ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, ট্রলারটিতে মোট ২৭ থেকে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন।
আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া সৈকত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার জেলে সুলতান আহমদ বলেন, "কয়েক দিন ধরে সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছিলেন না। সকালে ঢেউয়ের তোরে ট্রলারটি ডুবে গেলে স্থানীয় জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে ১৮ জনকে উদ্ধার করেন। ট্রলারে থাকা অনেকেই এখনো নিখোঁজ।"
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন নুর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নুর (২৭) ও নুর কামাল (৪০)। বাকি ১৪ জন হলেন কাশেম আলী (২৫), আয়াত উল্লাহ (৩৬), মো. জাবের (২৫), নীর আহমদ (২৪), রহিম উল্লাহ (৩৮), রোজি উল্লাহ (২৪), আবুল হাশেম (৩৫), মো. হোসেন (৩০), মো. আয়াছ (২৩), শফিউল্লাহ (২৫), এনামুল হাসান (২২), মো. ইউনুস (২৬), নবী হোসেন (২০) ও কামাল হোসেন (২৩)।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) সদস্য হওয়ার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "মিয়ানমার থেকে ট্রলারটি টেকনাফের দিকে আসছিল। শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে পৌঁছানোর পর এটি ডুবে যায়। ট্রলারে ঠিক কতজন ছিলেন এবং তাঁদের গন্তব্য কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজিবি উদ্ধার ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।"