বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান প্রবেশের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই সড়ক দিয়ে কক্সবাজারের দিকে আসা একটি পিকআপকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি গতি না কমিয়ে দ্রুত চলে যায়। এরপর পুলিশ প্রায় দুই কিলোমিটার ধাওয়া করে পিকআপটি জব্দ করতে সক্ষম হলেও ইয়াবার চালান নিয়ে পাচারকারী পালিয়ে যান।

জব্দ করা পিকআপটিতে তল্লাশি চালিয়ে চালকের সিটসংলগ্ন স্টিয়ারিংয়ের নিচে ব্রেকের পাশের (পাদানির নিচে) অংশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিনটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এসময় পিকআপচালক মো. সোহেলকে (২৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভিকাটা গ্রামের ফরিদুল আলমের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "পিকআপে লুকিয়ে ইয়াবার চালান কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার খবর পুলিশের আগে থেকে জানা ছিল। অস্থায়ী চেকপোস্টে থামার সংকেত দিলে তা অমান্য করে পিকআপটি দ্রুত চলে যায়। এরপর ধাওয়া করে দুই কিলোমিটার দূরে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীকুল এলাকা থেকে পিকআপটি জব্দ করা হয়। এর আগে পিকআপ থেকে ইয়াবা নিয়ে এক ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।"

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চালক মো. সোহেলকে এই ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সোহেল ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছেন। ইয়াবা যেন কেউ লুট করতে না পারে সে জন্য গাড়িতে পিস্তল রেখেছিলেন তাঁরা।"

বিকেলে সোহেলকে কক্সবাজার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে কয়েকটি সিন্ডিকেট মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার করছে। পাহাড়ি পথ হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও গর্জনিয়া বাজারে মাদক মজুত করে পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে তা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পাঠানো হয়। বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযানে বড় চালানসহ পাচারকারীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।