অনেকের মধ্যেই প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু ফল নিয়মিত খেলে দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই বিশ্বাসটি প্রবল। তবে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, এমন কোনো একক ফল নেই যা এককভাবে উচ্চতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মূলত বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, হরমোনের প্রভাব, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর উচ্চতা নির্ভর করে। তবে কিছু ফলে বিদ্যমান ভিটামিন ও খনিজ উপাদান হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং শরীরের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ফলগুলো শিশু-কিশোরদের তাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে।

যেসব ফল এই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে সেগুলো হলো:

কলা: পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬-এর সমৃদ্ধ উৎস কলা হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি শরীরের কোষগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কমলা: কমলায় থাকা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড়, তরুণাস্থি ও সংযোজক টিস্যুর জন্য অপরিহার্য। তাই বেড়ে ওঠার বয়সে কমলা অত্যন্ত উপকারী।

পেঁপে: ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং হজমে সহায়ক এনজাইম সমৃদ্ধ পেঁপে শরীরের পুষ্টি শোষণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে, যা স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

বেরিজাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরিসহ বিভিন্ন বেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ শরীরের কোষের সুরক্ষা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

আপেল: ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ সমৃদ্ধ আপেল সরাসরি উচ্চতা না বাড়ালেও একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শরীরকে সুস্থ রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফল খেয়ে উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব নয়। বরং প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন কে-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো হাড়ের বৃদ্ধি ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ফলের পাশাপাশি প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়াম করা এবং ভিটামিন ডি-এর জন্য রোদে থাকা জরুরি। এছাড়া কোনো অসুস্থতা বা পুষ্টিহীনতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ফল বা খাবারের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানানো হয়েছে, না। সাধারণত বয়ঃসন্ধির শেষ দিকে হাড়ের গ্রোথ প্লেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোনো খাবার, ব্যায়াম বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হাড় মজবুত রাখতে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, উচ্চতা বৃদ্ধির কোনো জাদুকরি ফল নেই। কলা, কমলা, পেঁপে, আপেল ও বেরিজাতীয় ফলগুলো কেবল ভিটামিন ও খনিজের উৎস হিসেবে সুস্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্বাভাবিক বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: বিকাম টলার ক্লিনিক