ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে হাইকোর্টে। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানির কার্যক্রম শুরু করে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই শুনানি গ্রহণ করেন। আগামীকাল বুধবার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শোনার জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের এই সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করেন। গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় আলোচিত এই হত্যা মামলার শুনানি শুরু হলো।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোছা. রোহানী সিদ্দীকা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক। শুনানির পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু করেছে। শুনানিতে পেপারবুক থেকে একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পড়ে শোনানো হয়। বুধবার শুনানি হবে।"
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর ২৯ অক্টোবর মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছালে তা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন, যার ওপর আজ প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হলো।