ফরিদপুরের মধুখালীতে টানা বর্ষণের ফলে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টির কারণে খেতের সিংহভাগ মরিচ গাছ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অন্যদিকে, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধুখালীর স্থানীয় আড়তদার মো. আতিয়ার রহমান মোল্যা ও মির্জা আবু জাফর জানান, বাজারে আমদানি একেবারেই কম থাকায় প্রতি মণ কাঁচা মরিচ ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং ভালো মানের মরিচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হচ্ছে। মরিচের বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিকট ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনা নেই, বরং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। আড়তের এই প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে; বর্তমানে মধুখালীতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপ্রধান মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছিল। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ভারী বর্ষণে খেতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাধারণত অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃষকেরা মরিচ ক্ষেতে মিষ্টি কুমড়ার সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেন। তবে এবার পানির কারণে মিষ্টি কুমড়ার চাষও ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এই চরম ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগিতা দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা। রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, এ বছর তিনি তার ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছিলেন, কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ পচে গেছে। এখন তিনি ক্ষেত পরিষ্কার করে ধানের আবাদ করবেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "উৎপাদন খরচের অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিপূরণ দেয়, তবেই হয়তো একটু ঘুরে দাঁড়াতে পারব।"
একই এলাকার কৃষক মো. খসরু মিয়া, মো. শফিক শেখ ও মো. লালচান মোল্লা জানান, সার ও কীটনাশকের দাম আগে থেকেই বেশি ছিল, তার ওপর বৃষ্টিতে পুরো খেত পচে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকার দ্রুত সহায়তার হাত না বাড়ালে চাষবাস চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মো. মাহবুব ইলাহী জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫০ শতাংশের বেশি মরিচ খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, বেশকিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সব চাষিকে প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার কাজ চলছে।