ভালো মানুষের পরিচয় শুধু বড় কোনো কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণ, কথাবার্তা, ব্যবহার এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমেই বোঝা যায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এসব ইতিবাচক আচরণকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বলা হয়—যা একজনের প্রকৃত ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।

কোনো ব্যক্তির চরিত্র বুঝতে সব সময় বড় ঘটনাগুলোর দিকে তাকাতে হয় না। বরং দৈনন্দিন জীবনে অন্যের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, কীভাবে কথা বলেন, এমনকি ছোট প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন কি না—এসবই আসল চিত্র তুলে ধরে। জেন-জির কল্যাণে মনোবিজ্ঞানীরাও এসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বলে উল্লেখ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় একজন ভালো মানুষের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ তুলে ধরা হলো।

একজন ব্যক্তির মধ্যে যত মানবিক গুণ থাকতে পারে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়া। যাঁরা ওয়েটার, নিম্নপদস্থ কর্মচারী, চালক বা অপরিচিত কাউকে ‘ধন্যবাদ’ বলতে ভোলেন না, তাঁরা সাধারণত মানুষ হিসেবে সদয়।

একজন ভালো মানুষ, ইতিবাচক মানুষ আপনার জীবনে ভালো কিছু ঘটলে আন্তরিকভাবে খুশি হন। তিনি কারও সাফল্যে ঈর্ষা বোধ করেন না। তিনি আপনার ছোট ছোট অর্জনও উদ্‌যাপন করেন। প্রতিযোগিতা করেন না, তুলনা টানেন না বা মুহূর্তটিকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন না।

ভুল স্বীকার করা পরিপক্বতা ও আবেগগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। ভুল স্বীকার করার মানে এই যে তিনি নিজেকে নিয়ে ‘ইনসিকিউরড’ নন; বরং নিজেকে শুধরে নিতে আগ্রহী।

আরেকটি ‘আন্ডাররেটেড’ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো—অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা।

কথায়-আড্ডায় সব সময় ফাঁকা কথা দিয়ে নীরবতা ভরিয়ে তোলার দরকার নেই। কথায় বলে, আপনার কথাটি যদি নীরবতার চেয়েও সুন্দর হয়, তাহলেই কেবল বলুন।

জাপানিরা যে কারণে দীর্ঘজীবী হয়—এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরা হয়েছে। অযথা কেউ একটি গাছের পাতা বা ফুল ছিঁড়লেও একজন আবেগগতভাগে শক্তিশালী (ইকিউ বেশি যাঁর) মানুষের মনটা হু হু করে ওঠে। গাছ কাটলে তিনি মনে ব্যথা পান। ভালোবাসেন প্রকৃতি। সব প্রাণীর জন্যই তাঁর অন্তরে সমান অনুভূতি। পারতপক্ষে কোনো ধরনের অপচয় করেন না। সাধারণত এই মানুষেরাই টেকসই জীবনযাপনের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’।

সুস্থ মানসিকতার মানুষ ‘না’কে সহজে গ্রহণ করেন। মানুষের ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করেন এবং পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তা গড়ে তোলেন।

যাঁরা ছোট ছোট প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেন, তাঁরা সাধারণত বড় পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য হন। এই ধারাবাহিকতা শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলে।

তবে যাঁরা সব সময় পরচর্চা বা গসিপ করেন, তাঁরা প্রায়ই চারপাশে নেতিবাচকতা ছড়ান।

সত্যিকারের উচ্ছ্বাস সহজে অভিনয় করা যায় না। যাঁরা আপনাকে দেখে আন্তরিকভাবে খুশি হন, তাঁরা আপনাকে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করান। উপরোক্ত এই ১০টি সেরা গ্রিন ফ্ল্যাগের অন্তত ৮টি যদি আপনার মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি এ প্লাস ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

সূত্র: ‘দ্য পাওয়ার অব টেন’–এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল