সাধারণত কেউ বিষ পান করলে পরিবারের সদস্য বা আশপাশের মানুষের মুখে প্রথমেই শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি পেট পরিষ্কার করাতে হবে!’ তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সব ধরনের বিষক্রিয়ায় পাকস্থলী পরিষ্কার বা স্টমাক ওয়াশের প্রয়োজন হয় না। বরং ভুল সময়ে বা ভুল পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষ নল ব্যবহার করে পাকস্থলীর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে ফেলার প্রক্রিয়াকে স্টমাক ওয়াশ বা গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, বিষ শরীরে শোষিত হওয়ার আগেই তা পাকস্থলী থেকে যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা। তবে সময়ের সাথে সাথে বিষ পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে চলে যায় এবং রক্তপ্রবাহে মিশতে শুরু করে, তাই এই প্রক্রিয়ায় সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
সাধারণত বিষ গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে এবং বিষের পরিমাণ প্রাণঘাতী বলে মনে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টমাক ওয়াশের কথা বিবেচনা করতে পারেন। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নয়; রোগীর শারীরিক অবস্থা, বিষের ধরন, পরিমাণ এবং কতক্ষণ আগে তা গ্রহণ করা হয়েছে—সবকিছু বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্টমাক ওয়াশের ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর ঝুঁকি বিদ্যমান। এর ফলে পাকস্থলীর তরল বা খাবার ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে, শ্বাসনালিতে খিঁচুনি হতে পারে, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি গলা বা খাদ্যনালিতে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই রোগীর জ্ঞান কমে গেলে বা শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা না থাকলে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া এই পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষ করে অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় ক্ষয়কারী পদার্থ পান করলে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়, কারণ এতে ক্ষত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে কেরোসিন বা উচ্চমাত্রায় ফুসফুসে প্রবেশের ঝুঁকিযুক্ত হাইড্রোকার্বন পান করলেও সাধারণত এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, বাড়িতে কখনো নিজে থেকে বমি করানোর চেষ্টা বা নল ঢুকিয়ে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়। এমন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং কী বিষ, কতটা এবং কখন খাওয়া হয়েছে—সেই সঠিক তথ্য চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে।