খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন। তবে তাদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। ফলে আজ রোববার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি।

গতকাল শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের তালা খোলা হলেও মূল প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। চাবি খুঁজে না পাওয়ায় তালা খোলা সম্ভব হয়নি বলে তাঁরা জানান। আজ সকাল ৯টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল প্রশাসনিক ভবনের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরবর্তীতে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা এসে তালা ভেঙে ভবনটি খুলে দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, "সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"

অন্যদিকে, রাতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি বাস্তবায়নের আগে ক্লাস-পরীক্ষায় না ফেরার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু’ ফেসবুক পেজে রাত ১০টার দিকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর প্যাডে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২২ জুলাই রাতে বিজয় ’২৪ হলের একটি ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সব ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সব ডিসিপ্লিনের প্রধান নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং যৌন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবির প্রতি শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে চারটায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিনপ্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকেরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খান ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে সব ভবনের তালা খুলে দেন।

উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয় ’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।