জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা কিংবা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে ভবিষ্যতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। পাসপোর্ট, ব্যাংকিং সেবা, চাকরির আবেদন, জমি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে এনআইডির তথ্য সঠিক থাকা জরুরি।

সুখবর হলো, এখন জাতীয় পরিচয়পত্রের বেশিরভাগ তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ঘরে বসেই আবেদন শুরু করা সম্ভব। তবে তথ্যের ধরন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

যেসব তথ্য সংশোধন করা যায়

অনলাইনে আবেদন করে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের আবেদন করা যায়।

নিজের নাম বা নামের বানান

বাংলা ও ইংরেজি নাম

জন্মতারিখ

পিতা ও মাতার নাম

স্বামী বা স্ত্রীর নাম

বৈবাহিক অবস্থা

ঠিকানা

পেশা

রক্তের গ্রুপসহ কিছু অন্যান্য তথ্যদ

তবে প্রতিটি তথ্য পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।

আবেদন করার আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন

যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান, সেটির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা পরিষ্কার ছবি প্রস্তুত রাখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদ, এসএসসি বা সমমানের সনদ, পাসপোর্ট, বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহ নিবন্ধন বা তালাকের কাগজ, নাগরিকত্ব সনদ ও/বা অন্যান্য সরকারি নথি লাগতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ধাপ ১: এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

আগে অ্যাকাউন্ট খোলা থাকলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন। লগইনের সময় ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হতে পারে।

ধাপ ২: তথ্য সংশোধনের অপশন নির্বাচন করুন

লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে প্রোফাইল বা তথ্য সংশোধন অপশনে যান।

এখানে ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য আলাদা বিভাগে দেখা যাবে। যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: সঠিক তথ্য লিখুন

যে তথ্যটি পরিবর্তন করতে চান, তার সঠিক তথ্য লিখুন।

তথ্য অবশ্যই সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে লিখতে হবে। বানান, জন্মতারিখ বা নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন

তথ্য সংশোধনের কারণ প্রমাণ করতে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে।

ছবিগুলো যেন স্পষ্ট হয় এবং সব লেখা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অস্পষ্ট বা ভুল নথি দিলে আবেদন বাতিল বা দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।

ধাপ ৫: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন

কোন ধরনের তথ্য সংশোধন করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত ফি দিতে হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে বা অনুমোদিত পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করা যায়। ফি জমার রসিদ সংরক্ষণ করে রাখুন।

ধাপ ৬: আবেদন জমা দিন

সব তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন জমা দিন।

আবেদন সফলভাবে জমা হলে একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে আবেদনটির অগ্রগতি জানতে এটি প্রয়োজন হবে।

আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হয়?

আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময় সব ক্ষেত্রে এক নয়। এটি সংশোধনের ধরন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে।

কিছু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও জটিল সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে বা শুনানিতে উপস্থিত হতে বলা হতে পারে।

আবেদন করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

সঠিক ও সত্য তথ্য দিন।

প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়া সংশোধনের আবেদন করবেন না।

আবেদন নম্বর ও ফি প্রদানের রসিদ সংরক্ষণ করুন।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওটিপি বা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।

একই তথ্যের জন্য বারবার আবেদন না করে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

আবেদন নিয়ে জটিলতা হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কল সেন্টার ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যায়।

সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আইন, বিধি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র