দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে পদোন্নতি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপিঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক কারণে কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বদলি করা কিংবা বছরের পর বছর ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখার মতো ঘটনা ঘটে।

এমনকি ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেও বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তার প্রত্যাশিত মূল্যায়ন মেলেনি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে প্রশাসনে বড় ধরনের পুনর্গঠনের হাওয়া বইতে শুরু করে।

বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সরকারের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে যোগ্যতা ও যোগ্য ব্যক্তির সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে অভিজ্ঞ ও পেশাদার কর্মকর্তারা এখন রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন। যা আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা কাটিয়ে কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আমলাতন্ত্রের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রশাসনকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও দক্ষ করে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনে এই মেধাভিত্তিক ও পেশাদার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতেই একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বর্তমান প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কর্মকর্তারা কোনো দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত। কিছু গোষ্ঠী ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে না পেরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করার চক্রান্ত করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক বলয় থেকে বের হয়ে এসে যোগ্যতা, সততা ও পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে শুধু দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভই দূর হবে না; বরং সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।