সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলিমুল ইসলামের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তির এমন আইনবিরুদ্ধ কাজ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে উপাচার্যের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর তিনটি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ চলমান উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য।
গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পরপরই ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের মতে, উপাচার্যের মতো উচ্চপদে থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেই এই ছবিগুলো গণমাধ্যমে পাঠিয়ে আইন অমান্য করার বিষয়টিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য আলিমুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তাঁর এক সহকর্মী নতুন মোটরসাইকেল কিনেছেন। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি আজ দুপুরে ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি চালিয়েছেন।"
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ চলমান উন্নয়নকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে উপাচার্য আলিমুল ইসলাম ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে উপাচার্য বলেন, "ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সমগ্র ক্যাম্পাস সব সময় নজরদারিতে থাকে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরীদের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওয়াকিটকির সুবিধা চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি।"
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৭ মে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেছিলেন, "আমি হেলমেট পরেই বাইক চালাই। ভিডিও করার জন্য ১ মিনিটের কম সময় হেলমেট ছাড়া চালিয়ে ভিডিও করেছি।"