চাঁদপুরের মতলব উত্তরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনন্দিন নামাজ আদায়ে আসা মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে তিন ভাই—শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেনের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদের নামে তিন শতাংশ জমি দান করা হয়। পরবর্তীতে রেকর্ড সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বড় ভাই শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই মনির হোসেন আরও এক শতাংশ জমি দান করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই জমির ওপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত পাকা মসজিদে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ৭-৮ বছর ধরে রফিকুল ইসলাম মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি ইতিপূর্বে মসজিদের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ তিনি মসজিদের মূল প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দেন।

নামাজ আদায় করতে আসা একাধিক মুসল্লি জানান, প্রতিদিনের মতো নামাজে এসে হঠাৎ প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেখতে পান তারা। এতে যাতায়াতে ভীষণ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধান চান।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম ও সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান জানান, তিন ভাইয়ের দান করা জমিতেই এটি প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি রফিকুল ইসলাম দাবি তোলেন, মসজিদের কিছু অংশ তার ব্যক্তিগত জমির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিন ভাইকে বসার আহ্বান জানানো হলেও তা হয়নি। কোনো সমঝোতা ছাড়াই হঠাৎ করে মসজিদের প্রবেশপথে বেড়া দেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মসজিদের জায়গায় নয়, নিজের জমিতে বেড়া দিয়েছি। মসজিদের ভেতর ও বাইরে আমার জমি রয়েছে। আমাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেই এই কাজ করেছি। মসজিদ কমিটির লোকজন আমাকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সামাজিকভাবে বা আইনগতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে আমি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। ব্যক্তিগত বিরোধ থাকলেও কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ বা সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এভাবে বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলে উভয় পক্ষকে নিয়ে দ্রুতই একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।