গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনামথিত স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
২০২৫ সালের এই দিনে দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণার্থী যুদ্ধবিমান সজোড়ে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলাম সাগরসহ মোট ৩৭ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মাইলস্টোন স্কুলের ২৮ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৩ জন অভিভাবক ও ১ জন সেবিকা।
দিনটির বর্ষপূর্তিতে উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে দুই পর্বে স্মরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে দুর্ঘটনার স্থান—হায়দার আলী একাডেমিক ভবনের সামনে নির্মিত বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ সময় বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের সুশৃঙ্খল দল সশ্রদ্ধ সালাম প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল নুরন্ নবী (অব.), অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ মিসেস রিফাত নবী আলম এবং মাইলস্টোন স্কুল দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (অব.)।
কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল ৩টায়। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের প্রধান সেমিনার হলে আয়োজিত এ পর্বে ছিল আলোচনা সভা, নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের স্মৃতিচারণ এবং দোয়া মাহফিল।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান এবং মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল নুরন্ নবী (অব.)। অনুষ্ঠানে সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন নিহত শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল, নিহত শিক্ষার্থী তাসনিয়া হকের বাবা নাজমুল হক, আহত শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত এবং আহত শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্তর বাবা মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে অনুষ্ঠিত দোয়ায় নিহতদের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত প্রার্থনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।