অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির সমন্বয়ে চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় পাটের ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯২০ হেক্টরের চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি। মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর, কোদালিয়া, চুনখোলা, গাংনী ও গাওলা ইউনিয়নে এই ফলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাঠ থেকে কাটা পাট নদী-নালা ও জলাশয়ে জাগ দেওয়া, পচানো ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, সময়মতো সার প্রয়োগ ও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সহযোগিতার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুকূল আবহাওয়াও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চাষিদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাটের গুণগত মান ও গাছের দৈর্ঘ্য উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় তারা।

মোল্লাহাটের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, "এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। পাটের দাম এমন ভালো থাকলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে পাট চাষ করব।"

অন্যদিকে, কৃষক হরিপদ দত্ত জানান, "পাট চাষে এবার খরচ কিছুটা বেশি হলেও ফলন ভালো হওয়ায় সেটা পুষিয়ে যাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি। পাটের দাম এভাবে থাকলে কৃষকরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হবেন।"

পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকা কৃষক মনিরুল বলেন, "পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। এবার পাটের গাছ ও আঁশের মান ভালো হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় পরের মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট আবাদ করার পরিকল্পনা করছি। আগে পাটের দাম নিয়ে অনেক সময় লোকসানের আশঙ্কায় থাকতে হতো। এবার ফলন ও দাম—দুটিই ভালো হওয়ায় সেই চিন্তা অনেকটাই কমেছে। কৃষকের জন্য পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।"

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় ১ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯২০ হেক্টর। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ায় এবার পাটের ফলন ও গুণগত মান ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন। পাটের ভালো দাম ও ফলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বাড়বে এবং সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফিরে আসবে।"

কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ পাটের চাষও নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদী তারা।