বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের আলোচ্যসূচিতে কেন রোহিঙ্গা সংকট অন্তর্ভুক্ত নেই, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জোটের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিমসটেক সচিবালয়ে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিমসটেকের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, ‘সদস্যদেশগুলো একসঙ্গে বসে বিমসটেকের এজেন্ডার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এখন পর্যন্ত আমাদের এজেন্ডায় রাজনৈতিক ধরনের বিষয়গুলো থাকে না। সুতরাং এই বিষয়ের অবস্থানও ওই জায়গাতেই।’

মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই অঞ্চলকে একীভূত করে কারিগরি ও অর্থনৈতিক খাতে বাস্তবিক ও দৃশ্যমান সহযোগিতার লক্ষ্যেই বিমসটেক গঠন করা হয়েছিল। সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সংস্থাটি মূলত দৃশ্যমান সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক ইস্যু থেকে দূরে থাকে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বিমসটেক মহাসচিবের উপস্থিতিতেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সংস্থাটিকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রতিমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরদিন জোটের মহাসচিব এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার হলো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আদি নিবাস। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে পালিয়ে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে আসছে।