মানিকগঞ্জে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, একটি শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা যুক্ত করতে সরকার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে তা ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, শিশুদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় নয়, প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতিও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। আপনারা ইতোমধ্যে শুনেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছেন। স্কুলের পোশাক, ব্যাগ, পুষ্টিকর খাবারসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

এ সময় তিনি এলাকাবাসীর প্রতি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনোভাবেই বিদ্যালয়কে দলীয়করণ করা যাবে না। এখানে সব পরিবারের সন্তান পড়াশোনা করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো স্থান নেই। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে পাঠদান করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে নিজ নিজ গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান এবং পরিবেশ রক্ষায় এই কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।