কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীদের গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এই ঘটনা ঘটে। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়িতে যাওয়ার পথে বরযাত্রীদের একটি গাড়ি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে মিষ্টির টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বরপক্ষের সদস্যদের সঙ্গে তাদের তর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয় এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়িতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে দুজনকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কাজল বলেন, "বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে বরপক্ষের কথা-কাটাকাটি হলে তাদের লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে মারামারি বাধে। এতে তাদের পক্ষের ১৫/১৬ জন আহত হয়েছেন।"
অন্যদিকে, বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন বলেন, "কাজলের ভাই-ভাতিজারা বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়েই প্রথমে কথা কাটাকাটি, পরে সংঘর্ষ হয়। তাদের পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।"
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. সোহেব খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।