বাংলাদেশে জলবায়ু ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে একটি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ‘এমপাওয়ারিং সিভিল সোসাইটি ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন’ নামের এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে (ডব্লিউএইচএইচ), এডুকো, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও উত্তরণ।
রোববার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এক কর্মশালার মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব, পরিবেশবিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করা। এই উদ্দেশ্যে সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যাডভোকেসি দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনা এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস উইয়াহল এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। পরবর্তীতে ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের হেড অব প্রজেক্ট আফসারী বেগম প্রকল্পের সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরেন। এডুকো বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রাম তাজিন হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘ইনসাইটস ফ্রম কমিউনিটিজ’ পর্বে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বেশি ফলাফলের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রশংসা করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফলাফলমুখী একজন নেতা, যিনি জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন। দেশের মানুষ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে—এমন যেকোনো উদ্যোগে আমরা সহযোগিতা করব।’
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের এডউইন কোকেক বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে জলবায়ু কার্যক্রম যেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে—সেই লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস উইয়াহল বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ করে, একে অপরের কাছ থেকে শিখে এবং সম্মিলিত শক্তি গড়ে তুলে আমরা দীর্ঘস্থায়ী ও রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারব। প্রকল্পের সাফল্য শুধু কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়, বরং অংশীদারত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং আমরা একসঙ্গে যে ইতিবাচক পরিবর্তন অর্জন করব, তার মাধ্যমেও পরিমাপ করা হবে।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘এই প্রকল্পের লক্ষ্য কোনো একক দাতা, অংশীদার বা অন্য কোনো পক্ষের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সরকার এবং নাগরিকদের সংগঠনগুলোর মধ্যে উচ্চমাত্রার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রেজওয়ানুর রহমান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মো. মনিরুল ইসলাম।