সাভারের আশুলিয়ায় মধ্য জামগড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ বাসা থেকে অর্ধগলিত তিন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে নাজমা আক্তার, তার স্বামী আলমগীর হোসেন ও তাদের সদ্যজাত নবজাতকের।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে ওই বাসা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মধ্যরাতে দেড়টার দিকে তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নাজমা আক্তার দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুরা পাকপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের পোষাক কারখানায় সুইং হেলপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আলমগীর হোসেন আলম আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভাসমান পান ও সিগারেট বিক্রি করতেন। তারা ৯ জুলাই ওই ভাড়াটিয়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। নাজমা সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং ডিসেম্বরে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার কথা ছিল।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক আশুলিয়া থানার এক কর্মকর্তা বলেন, "তাদের মরদেহ যেভাবে ছিল, তা দেখে মনে হয়েছে দুই-তিন দিন আগে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। নাজমা গর্ববতী ছিলেন। দুই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে–নাজমার মৃত্যুর পর হয়তো পেট ফুলে নবজাত বেরিয়ে যেতে পারে, নাহয় ঘটনার সময় কোনো কারণে ভূমিষ্ট হতে পারে। তদন্তে বিস্তারিত উঠে আসবে।"
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর আগে শাহ আলমের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। নাজমার বোন শাপলা আক্তার জানান, "বোনো সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ কথা হয়। নাজমার আগেও একটি বিয়ে হয়েছিল। আগের সংসারে তার ১১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তিন বছর নাজমার দ্বিতীয় বিয়ে হয় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে।"
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, "মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম ও ঢাকা উত্তর ডিবি পুলিশ।" তিনি আরও বলেন, "নাজমার ডিসেম্বরে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত কীভাবে ভূমিষ্ট হলো, নির্যাতনের কারণে হয়েছে কি না–এসব বিষয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"