৩৪ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ। আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্য প্রদানের পর তাঁকে জেরা করা হয়। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন জানান, মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক এবং সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আজ রাশেদুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ সাক্ষী আসাদুল আজাদকে জেরা করেন। অন্যদিকে, আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ বাবুল ব্যাপারী জেরা মুলতবি করার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। অবশিষ্ট জেরা এবং তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী ৯ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন।

গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ করা হয়, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারসহ অন্যরা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ওই ঋণ বিতরণের নামে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীন হক ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস; রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না; এবং মাররিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হকের সাক্ষ্যের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এরপর ২২ জুন পাঁচজন এবং ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। আজ আসাদুল আজাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলায় মোট ১৫ জনের মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।