শহুরে যান্ত্রিক জীবনে প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ছাদবাগান। আর সেই ছাদে যদি থোকা থোকা আম ধরে, তবে তা হয়ে ওঠে আরও আনন্দদায়ক। বর্তমানে এমন কিছু উন্নত জাতের আম উদ্ভাবিত হয়েছে, যা ছোট টব বা ড্রামেও প্রচুর ফলন দিতে সক্ষম।
আগারগাঁও জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নার্সারিগুলোর স্টলে এই বিশেষ জাতের আমের চারা পাওয়া যাচ্ছে। গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত বিএডিসি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও অধিক ফলনশীল পাঁচটি আমের জাতের পরামর্শ দিয়েছেন।
তালিকার প্রথমেই রয়েছে আম্রপালি। ছাদবাগানের জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত। কলমের ঝোপালো আম্রপালি গাছ ছোট ড্রামেই সহজে খাপ খাইয়ে নেয় এবং প্রতিবছর থোকা থোকা মিষ্টি আম দেয়।
যারা বছরজুড়েই তাজা আমের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে থাই জাতের বারোমাসি আম 'কাটিমন'। এই জাতটি বছরে তিন থেকে চারবার ফলন দেয়। এক ডালে মুকুল থাকলে অন্য ডালে বড় আম, আবার এক ডালে কাঁচা আম থাকলে অন্য ডালে পাকা আম দেখা যায়। বারোমাসি জাত হিসেবে কাটিমন ছাড়াও বারি-১১, পুনাই কিংবা মালয়েশিয়ান লুবনা আম লাগানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি-৪ জাতটি ছাদবাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি একটি নাবি জাতের (লেট ভ্যারাইটি) আম, যা সাধারণ আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর পাকতে শুরু করে। আকারে বড়, আঁশহীন এবং সুস্বাদু এই আমের গায়ে পাকার পর চমৎকার রং ফুটে ওঠে।
থাইল্যান্ডের বিখ্যাত জাত 'চিয়াংমাই' তার গোলাপি রঙের লম্বাটে আকৃতির জন্য পরিচিত। কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই এটি অত্যন্ত মিষ্টি। এই জাতের ফলন ভালো এবং রোগবালাইয়ের উপদ্রবও খুব কম।
এছাড়া তালিকায় রয়েছে 'ব্যানানা ম্যাঙ্গো'। দেখতে পাকা কলার মতো লম্বাটে ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় এর এই নামকরণ। থাই জাতের এই আমটি পাতলা চামড়া ও চ্যাপ্টা আঁটির কারণে ভক্ষণযোগ্য অংশে অনেক বেশি।
বৃক্ষমেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর ৩৪-৩৫ নম্বর স্টল থেকে সাশ্রয়ী দামে নির্ভরযোগ্য চারা সংগ্রহ করা যাবে। সেখানে আম্রপালি, বারি-৪ এবং ব্যানানা ম্যাঙ্গোর দাম ১০০ টাকা, বারোমাসি কাটিমন ২৫০ টাকা এবং চিয়াংমাইয়ের দাম ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি স্টলগুলোতে গাছের উচ্চতা ও টবের আকার অনুযায়ী দাম ভিন্ন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদবাগানে আম চাষের জন্য হাফ ড্রাম বা অন্তত ২০ ইঞ্চি সাইজের বড় টব ব্যবহার করা শ্রেয়। ড্রামের নিচে পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা রাখা এবং নিয়মিত সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া সঠিক নিয়মে ডালপালা ছাঁটাই করলে গাছগুলো বছরের পর বছর চমৎকার ফলন দেবে।