রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে দুটি বিশাল আকারের বাগাড় মাছ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ দুটির ওজন ছিল যথাক্রমে ৩২ ও ২৬ কেজি।

জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে প্রায় ৩২ কেজি ওজনের একটি বাগাড় ধরা পড়ে। এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ২৬ কেজি ওজনের আরেকটি বাগাড় ধরা পড়েছিল।

স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে রাজবাড়ীর গুদারবাজার থেকে পদ্মা নদীতে বড় মাছ ধরার জাল ফেলে ভাটিতে ভাসছিলেন জেলেরা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের জেলে নয়ন হালদার জাল টানার সময় বড় মাছ ধরা পড়লে তা নৌকায় তোলেন এবং দেখেন বিশাল আকারের একটি বাগাড়। সকালেই তিনি মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ে আসেন। মেপে দেখা যায় মাছটির ওজন প্রায় ৩২ কেজি। পরবর্তীতে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ মাছটি ক্রয় করেন।

মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, প্রায় ৩২ কেজি ওজনের বাগাড়টি তিনি সরাসরি জেলের কাছ থেকে নিলামে ২ হাজার টাকা কেজি দরে ৬৪ হাজার টাকায় কিনেছেন। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি মাছটি সিলেটের আমেরিকাপ্রবাসী শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা লাভে ৭০ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। শাহজাহান শেখ বলেন, "বর্ষা এলেই বাগাড় মাছ ধরা পড়ে বেশি। চলতি মাসের ১৫ দিনে অন্তত ২০টির মতো বাগাড় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে।"

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় বাহির চর দৌলতদিয়ায় স্থানীয় জেলে তারা মণ্ডলের জালে প্রায় ২৬ কেজি ওজনের আরেকটি বাগাড় ধরা পড়ে। সেটি শাহজাহান শেখ ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ৪১ হাজার ৬০০ টাকায় নিলামে কিনে নেন। আজ তিনি মাছটি সিলেটের শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ৪৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের তালিকা অনুযায়ী, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী বাগাড় শিকার, ধরা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এই আইন উপেক্ষা করেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার ও নিলামে বিক্রি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হক জানান, ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বাধ্যবাধকতা মৎস্য বিভাগের নেই। তিনি বলেন, "এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা যেতে পারে। তবে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে।"

অন্যদিকে, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি মাছ দুটি বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও জেলে ও ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছি। প্রয়োজনে আবার খোঁজখবর নিয়ে বাগাড় শিকার ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”