সিলেটের জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের ১৭ জন সরকারি কৌঁসুলি তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তাঁরা আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারী আইনজীবীরা বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সদস্য, যা জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ১৭ জনের মধ্যে একজন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল পিপি), একজন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) এবং ১৫ জন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রয়েছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাত আটটার দিকে তিনি জানান, আনুমানিক বেলা তিনটার দিকে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পৃথক পৃথক পদত্যাগপত্রে ওই সরকারি কৌঁসুলিরা উল্লেখ করেন, "বর্তমান সরকার কর্তৃক গণভোট, সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা ও স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ চালু না করার প্রতিবাদ হিসেবে তাঁরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন।"

পদত্যাগকারী ব্যক্তিদের মধ্যে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল পিপি) মো. আলীম উদ্দীন এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (অ্যাডিশনাল জিপি) মোহাম্মদ নাজমুল হুদা রয়েছেন। এছাড়া সহকারী সরকারি কৌঁসুলিদের (এপিপি) তালিকায় আছেন মো. রবিউল ইসলাম, জুনেদ আহমদ, মো. মোজাম্মিল আলী, মো. রহমত আলী, ইয়াসিন খান, মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, সালেহ আহমদ, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী আতিফুল হক, সাদেক আহমদ, মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম, মো. আবদুল গফফার, আফজল মিয়া তালুকদার, খায়রুল আলম ও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সরকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগ এনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কৌঁসুলিরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্র জমাদানকারী সবাই বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত।"

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের মাধ্যমে সিলেট জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে ১০৩ জন সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পদত্যাগকারী ১৭ জন সেই নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।