জমকালো উদ্বোধনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম দিনের পরীক্ষায় বসেছে বাংলাদেশের লাল–সবুজের ছয় প্রতিনিধি। ঐতিহাসিক ভেন্যু সাংহাই হাইস্কুলে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত একটানা সাড়ে চার ঘণ্টা চলে পরীক্ষা। আজ তিনটি মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে নাম্বার থিওরি একটি, জ্যামিতির একটি ও কম্বিনটোরিক্স ও অ্যালজেবরা মিলে একটি। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ দলে রয়েছে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনামী জামান, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী এম জামিউল হোসেন, চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রায়হান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মারজুক রহমান ও ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন খান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে আছেন কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, উপদলনেতা হিসেবে আছেন একাডেমিক সমন্বয়ক অপূর্ব কুমার এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে আছেন সমন্বয়ক মো. বায়েজিদ ভূঁইয়া।

আগামীকাল ১৬ জুলাই দ্বিতীয় ও শেষ দিনের পরীক্ষা। ভালো করার আশাবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের এই শিক্ষার্থীরা।

.সাংহাইয়ে গণিতের বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ.

ঐতিহাসিক ভেন্যু সাংহাই হাইস্কুল

এবারের অলিম্পিয়াডের মূল ভেন্যু ও শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল হলো ঐতিহাসিক সাংহাই হাইস্কুল। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল চীনের নয়; বরং পুরো বিশ্বে অন্যতম সেরা মেধা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় ভালো করার দীর্ঘ রেকর্ড রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই স্কুলের শিক্ষার্থীরাই আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে প্রায় ১৮টির মতো স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) জয় করেছে। এমন একটি জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে বসে বিশ্বের ১২০টি দেশের সেরা মেধাবীদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে পরীক্ষা দেওয়া ও থাকা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এক অভিজ্ঞতা।

.

ইউ গার্ডেন ও জিগজ্যাগ সেতু ভ্রমণ

আজ সাংহাইয়ে ছিল অনেক গরম। দিনের তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার হলে, তখন অংশগ্রহণকারী সব দেশের উপদলনেতা ও পর্যবেক্ষকদের নিয়ে যাওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী ইউ গার্ডেন। প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানে রয়েছে কৃত্রিম পাহাড়, পাথরের ভাস্কর্য, পুকুর, ঐতিহ্যবাহী প্যাভিলিয়ন, শতবর্ষী বৃক্ষ ও নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত বাগান। প্রকৃতি ও স্থাপত্যের ভারসাম্য রক্ষাই ছিল এর মূল দর্শন।

উদ্যানের সবচেয়ে পরিচিত অংশ জিগজ্যাগ সেতু। একাধিক তীক্ষ্ণ বাঁক নিয়ে তৈরি। পুকুরের ওপর আঁকাবাঁকা সেতু, চারপাশে পদ্মফুল, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও লাল রঙের প্যাভিলিয়ন মিলিয়ে এটি সাংহাইয়ের সবচেয়ে বেশি আলোকচিত্র ধারণ করা স্থানগুলোর একটি। ইউ গার্ডেন থেকে ফেরার সময় সাংহাইয়ের বিখ্যাত ও দর্শনীয় বেশ কিছু সুউচ্চ ভবন দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় এ শহরে।

.

গণিতের এই মহাযজ্ঞে বিশ্বের তরুণ গণিতবিদেরা শুধু একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে না, একই সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে চীনের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত রাজধানী হিসেবে পরিচিত সাংহাইয়ের সঙ্গে। গণিতের বিশ্বমঞ্চকে কাজে লাগিয়ে চীন এভাবেই বিশ্বের সামনে নিজেদের আধুনিক নগর–পরিকল্পনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরছে।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক পিএলসির পৃষ্ঠপোষকতায় ও মুক্তকণ্ঠের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে ৬৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের জন্য ছয় সদস্যের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন করা হয়। দল নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।