রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে ববির পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আবুল বাশার, উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল আহাদ মিয়া এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর বিটিএলের পক্ষ থেকে লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তীতে ২০ নভেম্বর গুলশানে বিটিএলের কার্যালয়ে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা মূল্যের পাঁচটি ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়। তবে ব্যাটারির মূল্য পরিশোধ না করে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারির মূল্য আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আজ দুপুরে মেরুন রঙের বোরকা ও চোখে কালো চশমা পরে আদালতে উপস্থিত হন ববি। শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মামলার সঙ্গে আমি কীভাবে সম্পৃক্ত, নিজেও জানি না। বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমার পরিচিত, তিনি ছবি প্রযোজনাও করেছেন, এ কারণে তাঁর অফিসে আমাদের যাতায়াত—তাই বলে মামলায় একজন আমার নাম দিয়ে দিল! এটা তো ঠিক না। আমি যেহেতু আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আদালতে গিয়ে জামিন নিয়েছি।’
শুনানি শেষে ববির অপর আইনজীবী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহারে ববির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। কে বা কারা তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা করেছে। আদালতে জামিন আবেদন করার পর আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।’






