বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজ যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবল ভক্তদের মাঝে চলে নানা খুনসুটি ও কুসংস্কার নিয়ে চর্চা। কেউ নির্দিষ্ট জার্সি পরে খেলা দেখেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট জায়গায় বসে নড়াচড়া না করে খেলা উপভোগ করেন। তবে মডেল ও অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়ার দুশ্চিন্তা একেবারেই ভিন্ন। তাঁর ধারণা, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

আজ বুধবার সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় নিজের এই মজার উপলব্ধির কথা জানান টয়া। তাঁর ভাষ্যে, এবারের বিশ্বকাপে সমর্থিত দলগুলোর ফলাফলের কারণে অনেকে তাঁকে ‘কুফা ভক্ত’ বলে ডাকছেন।

বিশ্বকাপে নিজের সমর্থনের হিসাব দিতে গিয়ে টয়া জানান, সব সময়ের প্রিয় দল জার্মানিকে তিনি সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা। এরপর ব্রাজিলকে সমর্থন করলেও সেই দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। জাপানের ভালো খেলা দেখতে চাইলেও তারা বেশিদূর যেতে পারেনি। একের পর এক এমন ঘটনায় অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি নিছক কাকতালীয় নাকি তাঁর সমর্থনের কোনো অদ্ভুত প্রভাব রয়েছে।

ভিডিওতে টয়া বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জীবনের এই নিরীক্ষাটা এবার সিরিয়াসলি করব। পরবর্তী যে দলটাকে সমর্থন করব, সেই দলও যদি বাদ পড়ে যায়, তাহলে আমি মেনে নেব, সমস্যাটা সত্যিই আমার! তাই এবার আমি আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করব। যদি আর্জেন্টিনা হেরে যায়, ফাইনালে উঠতে না পারে কিংবা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিজেকে “কুফা ভক্ত” হিসেবেই মেনে নেব।’

হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনা সমর্থনের পর যদি এই দলও হেরে যায়, তার পর থেকে ফুটবল খেলা দেখাই বন্ধ করে দেব। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে যদিও এটা আমার জন্য খুবই হতাশার। কারণ, আমি ফুটবল ভীষণ ভালোবাসি, অথচ বারবার আমার সমর্থন করা দলগুলো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিচ্ছে। শুধু সামাজিকমাধ্যমেই নয়, আশপাশের অনেক মানুষও আমাকে “কুফা ভক্ত” বলে ডাকতে শুরু করেছে। তাই বিষয়টাকে আমি এখন একটা এক্সপেরিমেন্ট হিসেবেই দেখছি। তবে সবাইকে একটা অনুরোধ, আমাকে খুব বেশি বকাঝকা করবেন না, আর এখনই কুফা বলেও দেবেন না। আমার এই নিরীক্ষার ফলাফলটা আগে দেখা যাক!’

ভিডিওর শেষ দিকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য সমর্থকদের খোঁজ নিয়েছেন টয়া। তিনি বলেন, ‘আমার মতো যদি আর কেউ থেকে থাকো—যে দলকে সমর্থন করলেই সেই দল কোনো না কোনোভাবে বাদ পড়ে যায়, তাহলে ভিডিওর মন্তব্যে জানাও। আমাদের একে অপরকে দরকার। তাহলে অন্তত বুঝতে পারব, আমি একা, নাকি এমন “কুফা ভক্তদের” একটা পুরো দলই আছে!’

মজার ছলে টয়া আরও বলেন, ‘বিষয়টা আসলে মজার হলেও একটু কষ্টের। কারণ, নিজের পছন্দের দলগুলোর বিদায় দেখা কখনোই সুখকর নয়। তাই চলুন, এই নিরীক্ষাটা একসঙ্গে করি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত আমরা সত্যিই কুফা ভক্ত কি না, নাকি সবই কাকতালীয় ঘটনা!’