স্বাধীনতার পর যাদের দায়িত্ব ছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার, তারা তা করেননি; বরং তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রাজনীতি টেনে এনেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এখন শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রুহুল আমীনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম এক সম্পূরক প্রশ্নে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে তৈরি করা হবে কি না জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন। শুধু তা–ই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে–প্রাণে বিশ্বাস করে যে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান সরকার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ’

বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়স্তরে ছেলে-মেয়ে উভয়ের একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ’ শুরু করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও সম্প্রসারিত হবে।

আরেকটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ছিলেন। একটি স্টল পরিদর্শনে গেলে শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের স্কুলে তেরো শ বাচ্চা পড়ে; কিন্তু তাদের কোনো মাঠ নেই। এ রকম অভিযোগ অনেকেই দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

রাজধানীর পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মাঠ ও পার্কগুলো থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধিতে চেষ্টা করছে এবং অনেকাংশে সফলতা এসেছে। এছাড়া বাচ্চাদের খেলার জন্য বা যেকোনো পর্যায়ের খেলাধুলার জন্য কোথায় খোলা জায়গা আছে তা খুঁজে বের করে সরকারকে জানানোর জন্য সারা দেশের স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ২০১০ সালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং ছিল যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস। ২০২৫ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৮১২ মেট্রিক টন এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস হয়েছে।

সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, সরকার বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এটি চালু হলে মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমবে এবং আমদানি–রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দুর্নীতি হলে এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার অবশ্যই হবে। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমিকভাবে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে সরকারের।