গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার রেলগেট এলাকার আল-আরাফ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ নবজাতকের পরিবারের।

নবজাতকের চাচা আলমগীর হোসেন আজ বিকেলে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে ওই হাসপাতালে মেয়েশিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর চিকিৎসকেরা এক্স-রে করতে বলেন। এক্স-রে করার পর ফিল্ম প্রিন্ট করার আগে মনিটরে শিশুর ডান হাতের বাহুর হাড় ভাঙা দেখতে পান তিনি। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা লুকাতে চাচ্ছিল। তিনি জোর করে এক্স-রে কক্ষের ভেতরে প্রবেশে করে মনিটরে থাকা ছবি তুলে ফেলেন। পরে এ ঘটনার দায় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি ও অবস) কুহু মুৎসুদী। সদস্য হিসেবে আছেন গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাবরিনা মোহনা ও কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক সার্জারি) মোহাম্মদ শরীফ হোসেন। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালটির স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুজ্জামান মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে কিছু ক্ষেত্রে এ রকম হয়ে যায়। ভালো চিকিৎসকের মাধ্যমে সিজার করা হয়েছে। ম্যাডাম যথেষ্ট সতর্কভাকে সিজার করেছেন। কিন্তু হঠাৎ এই জটিলতা হয়ে গেছে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে শিশুর চিকিৎসা করাচ্ছি। এখন শিশু ভালো আছে।’

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ আছে এবং অস্ত্রোপচারে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকও দক্ষ ছিলেন। তবুও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নির্ধারণে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।