রাজশাহী নগরের পদ্মা গার্ডেনে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে শান্তর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং তাঁর ভাই মো. শুভর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ভয়ভীতি প্রদর্শনের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরন্নবী হোসেন গত শনিবার আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন। এজাহারে উল্লিখিত অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাঁর বন্ধুকে নিয়ে পদ্মা গার্ডেনে আয়োজিত ‘প্রথম রাজশাহী লিটারারি ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ দেখতে যান। সেখানে গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখার টিকিট বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন করার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে মনিরুজ্জামান শান্ত এসে ওই শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ করেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ধর্ষণের হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে বাদী ও তাঁর বন্ধুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, "প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান শান্তর বিরুদ্ধে এর আগে বোয়ালিয়া থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।"

এছাড়া অপর আসামি মো. শুভর বিরুদ্ধে দুটি পুরোনো মামলার তথ্য পাওয়া গেলেও সেসব মামলার নিষ্পত্তির বিষয়ে অভিযোগপত্রে কোনো তথ্য নেই। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিচারের জন্য চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁকে ধরতে সমন জারির আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর ভাই মো. শুভ জামিন নিয়েছেন।

ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই রাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিলে পুলিশ তাঁকে ডেকে এনে মামলা গ্রহণ করে।

এই অভিযোগের বিষয়ে আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে মনিরুজ্জামান বলেন, পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয়নি। তাঁদের নাম যদি অভিযোগপত্রে থাকে, তবে সেটি একপক্ষীয়। তিনি আরও বলেন, “যে হুমকির কথা বলা হচ্ছে, সেটা আমি দিইনি। এখন আমি আদালতে যাব।”