ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার পুনরায় চালু হলো চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেল যোগাযোগ। আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস।
আজ সকাল থেকে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলেও ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেলওয়ে। দুপুরে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন পরিদর্শন করেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন। এসময় তাঁর সঙ্গে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মো. সুবক্তগীন বলেন, "চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের পরও গত মঙ্গলবার রেললাইনে পানি উঠেছে। এরপর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে তদারকি করা হয়। গত বুধবার রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ রেললাইন পরিদর্শন করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রেলপথের বিভিন্ন অংশ পাথর দিয়ে প্রায় এক ফুট উঁচু করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিন–রাত কাজ করে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এরপর গতকালই ট্রেন চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়।"
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল জোনের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ মুক্তকণ্ঠকে জানান, "চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে আজ বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর আগে জানালিহাট রেলস্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের প্রবাল এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে আনা হয়। রেললাইন এখন চলাচলের জন্য নিরাপদ।"
গত ৪ জুলাই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। টানা বৃষ্টির ফলে মঙ্গলবার নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেলপথ দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে পানি নামলেও শমসের পাড়ায় পানি জমে থাকায় মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সেদিন দুপুরে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় আটকে পড়লে তা প্রথমে ষোলশহর এবং পরে রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার মধ্যরাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া এবং ঢাকা থেকে দুই জোড়া। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করেন, যারা গত পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন।