শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের ফার্স্ট, সেকেন্ড কিংবা গ্রেডভিত্তিক বিভাজনের মাধ্যমে একধরনের মানসিক কারাগারে আবদ্ধ রাখা হয়।” তাঁর মতে, এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃত শিক্ষা হওয়া উচিত মুক্তচিন্তার, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার নিজস্ব যোগ্যতা, প্রতিভা ও সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পাবে।

শনিবার সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের বাতিঘর। এই বাতিঘর থেকে জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষক সমাজ সেই আলোর বাহক। তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সমাজ উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে, কারণ একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে এসব গুণের বিকাশ অপরিহার্য।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল কাজে লাগাতে সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন একাডেমিক ভবন নির্মিত হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মানসম্মত হবে।” পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শৃঙ্খলাবোধ, দলগত কাজের মানসিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক।

নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুস ছাত্তার মৃধা এবং সদস্য আল মামুন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।