ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ডিমবাহী ট্রাক উল্টে ছড়িয়ে পড়া ডিম কুড়াতে গিয়ে বাসচাপায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা মহাসড়কে ছয়টি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত তিনজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন জয়নাল (২৭), আরিফ (২৭) ও ওবায়দুর (৪০)। নিহত অন্য দুইজনের মধ্যে ডিমবাহী ট্রাকের চালক রয়েছেন। ট্রাকচালক ছাড়া নিহত ও আহতরা সবাই সোয়াদী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাওয়া ডিমবাহী ট্রাকটি সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ফলে সড়কের ওপর ডিম ছড়িয়ে পড়ে এবং তা কুড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন। সেই সময় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি দ্রুতগতির বাস তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং অন্তত সাতজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা শুভ চক্রবর্তী জানান, "যাত্রীবাহী বাসটি মহাসড়কে ডিম কুড়াতে থাকা ব্যক্তিদের চাপা দিয়ে চলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাসটি দ্রুত গতিতে চলে যায়।"
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা ছয়টি বাস ও ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ওই সড়কে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন বলেন, "এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের সবার নাম–পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা, ফরিদপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।"
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আহত ছয়জনকে আনা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়েছে। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।"






