ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জিহাদ মিয়া (১৫) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় সরাইল–খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অদূরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ ওই গ্রামের আজগর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশের জাফল খালে মাছ ধরছিলেন আজগর আলী। বিকেলে জিহাদ সেখানে গিয়ে একবার মাছ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে। পরে সন্ধ্যার পর পুনরায় বাবাকে সহায়তা করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা জিহাদের হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে মহাসড়কের পাশের একটি ঝোপে ফেলে রেখে যায়। রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সরাইল–খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অদূরের ওই ঝোপ থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কিশোরটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ছেলের মৃত্যুতে শোকাতুর আজগর আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ছেলে কুট্টাপাড়া মোড়ে মোটর মেকানিকের দোকানে কাজ করত। আমার ছেলে শান্ত স্বভাবের। তার হাতে একটি মুঠোফোন ছিল। দুর্বৃত্তরা এটি নিয়ে গেছে। আমার ছেলেকে কেন খুন করল? আমি এর বিচার চাই।’

ঘটনার বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, অনেক সময় নিয়ে ধস্তাধস্তি করে ছেলেটিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাত করা হলেও অধিক রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা হতে পারে, আবার পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।