টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও আজ শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, তবে এর তীব্রতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাগরে প্রবল হাওয়ার কারণে চার বন্দরে জারি করা তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত এবং পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত তিন থেকে পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় সেই তীব্রতা কিছুটা কমেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, যার পরিমাণ ছিল ১৪৭ মিলিমিটার।
আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস বিষয়ে নাজমুল হক বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে। তবে সামগ্রিকভাবে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রোববার ও সোমবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি থাকবে। তবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি অনেকটাই কমে যেতে পারে।”
বৃষ্টিপাতের কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, “সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব মৌসুমি বায়ুর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় এবং একই সঙ্গে বায়ুচাপের তারতম্য তৈরি হওয়ায় গত কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, রংপুর অঞ্চল এবং উজানের বৃষ্টির প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির বিস্তার কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন নদীর পানি এখনো বাড়তি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে দেশের অধিকাংশ এলাকার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।






